২৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫৬ পিএম

মেঘনা উপজেলা হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারি ৭০ শতাংশ 

মেঘনা উপজেলা হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারি ৭০ শতাংশ 
স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবার আস্থার স্থান মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লায় মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতকরা ৭০ শতাংশ স্বাভাবিক ও ৩০ শতাংশ গর্ভবতীর অস্ত্রোপাচারের (সিজার) মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। স্বাভাবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আরও বৃদ্ধি করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) মেডিভয়েসকে এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ জালাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এখনও ৪০ ভাগ হোমডেলিভারি হয়। এ ধরনের ডেলিভারিতে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। আমরা মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার রোধ করতে চাই। এ জন্য উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধির জন্য সবগুলো ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বলা হয়েছে।’

উজেলাবাসী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চিকিৎসা সেবার আস্থার স্থান হিসেবে বেচে নিয়েছেন জানিয়ে  ইউএইচএফপিও বলেন, ‘সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতি। ফলে ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৫ বছরে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।

আমরাতো ২৪ ঘণ্টাই সিজার করতে পারি না। এজন্য বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী চলে যায়। সপ্তাহে তিনদিন সিজার করা হয়। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।’

বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি ও সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। মাসে গড়ে ৪০ টি স্বাভাবিক ডেলিভারি ও ২০ টি সিজার অপারেশন হয়। সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় এতো দিন অন্যান্য অপারেশন চালু করা সম্ভব হয়নি। আজকে একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞ এখানে নতুন যোগদান করেছেন। এখন থেকে চালু হবে অন্যান্য অপারেশন,’যোগ করেন ডা. জালাল।

চারিদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা। প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবার আস্থার স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৫ সালে স্থাপিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকতার ছোয়াঁ পেয়েছে ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ জালাল হোসেনের হাত ধরে। দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করেন তিনি।

পুরাতন জীর্ণ ভবন সংস্কার, ৫০ শয্যায় উন্নীতের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, হাসপাতাল চত্বরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মতো ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি সচেষ্ট হন। দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ সামলে তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাসপাতালে নিয়মিত সেবা প্রদান করছেন।

সুদৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে একটি জীর্ণ হাসপাতালকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করেছেন ইউএইচএফপিও। এ সময়ে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তদানীন্তন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক